আজ সিলেটের কম্পানিগঞ্জ গিয়েছিলাম একজন অন্তসত্বা মহিলাকে উদ্ধার করার জন্যে।

হায়রে পানি! 

কখনো মানুষরে হাসায়, কখনো কাঁদায়।। 

আজ সিলেটের কম্পানিগঞ্জ গিয়েছিলাম একজন অন্তসত্বা মহিলাকে উদ্ধার করার জন্যে। 

জানেন? এখানে কোন কোন নৌকা এক ঘন্টার জন্যে ৫০হাজার এক লাখ টকাও চাইছে। ওরাই বা কি করবে ওদের ত সব গেছে। 

যাবার পথে দেখলাম সেনাবাহিনীও নৌকার খোঁজ করছে ঘাটে বসে। হেল্প চাইলাম , উনারাও নিরুপায়। 

অনেক কষ্টে একজন মাঝির হাতে পায়ে ধরে রোগির কথা বলিয়ে রাজি করালাম। তবে মাঝি আস্তে আস্তে বলছিল " আমার ঘরের লোক গলা পানিতে ভাসতাসে আমি জাইতাম নায়" ।

গ্রামের মানুষের মনটা হয় আকাশের চেয়ে বড়। রাজি হয়ে ঠিকি নিয়ে গেলেন আমাদের। কোনরকমে শ্রোত পার করে পৌছালাম সেই অন্তসত্বা মহিলার ঘরের দরজায়। 

কোন নেটওয়ার্ক বা যোগাযগের ব্যাবস্থা ছিলনা।।  উনার ছোট বোন আমাদের সাথে গিয়েছিল বাড়িটা ও চিনিয়ে দিল আমাদের।মেয়েটা ওর বড় বোনের চিন্তায় অনেকটা দম আটকে ছিল পুরো রাস্তা। 

গিয়ে শুনলাম অল্প কিছুখন আগেই উনারা অনেক কষ্টে আরেকটা নৌকা মেনেজ করে সিলেটের উদ্দ্যেশ্যে রউনা করেছেন।

পানিতে সব ডুবে যাওয়ায় ওদিকটা যোগাযোগ বিচ্ছিন তাই উনার খোঁজ ও নিতে পারছিলাম না । একদিকে উনাদের দুশ্চিতা আর অপর দিকে ভাবছিলাম এটা না মাত্র একটা কাহিনী । এরকম লক্ষ লক্ষ কাহিনীর উপর দীর্ঘশ্বাস ফেলে পার হচ্ছে সিলেট বাসীর দিন। 

প্রায় ৩ঘন্টা পর জানতে পারলাম সেই অন্তসত্বা ভদ্রমহিলা পৌছেছেন সিলেটে। শান্তির নিশ্বাস ফেলতে ফেলতেই অস্থিরতা শুরু হলো মনে যে কাল কয়টা পরিবারের কাছে খাবার পৌছাতে পারব?

মোট দুই লক্ষের কিছু বেশি টাকা উঠেছে। যা দিয়ে ২০০ পরিবারের কাছে সামনের ৭দিনের খাবার ত পৌছে দিতে পারব অন্তত। 

কিন্তু তারপর ?

নৌকা নিয়ে যাবার পথে ডানে বামে যাদের দেখলাম ক্ষুদার্ত কাকের মত আমাদের দিকে চেয়েছিল এই বুঝি নৌকা থামিয়ে কিছু খাবার দেব !! তাদের দিকে তাকাব কোন মুখে? 

বিশ্বাস আছে হয়ত আরও কিছু অনুদান আসবে। এত তারাতারি সিলেট থেকে পালিয়ে যেতে চাই না আমি। 

কথাগুলো পড়ে নেহাত গল্প মনে হলে একটা বার এসে স্বচোক্ষে দেখে যান কিভাবে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে সব । খাবার ত দূরে থাক পানির কলের উপরে পানি উঠে যাওয়ায় পানি না খেয়েও দিন পার করছে কতশত মানুষ ।

এদের রেখে পালাতে চাই না আমি ।

বাজার করা হচ্ছে । কাল কম্পানিগঞ্জ যাচ্ছি আমরা তাশরিফ স্কোয়াড । দোয়া কইরেন ।

সম্ভব হলে অনুদান পাঠিয়েন সাধ্যমত, কোন জোর নেই।

সাহায্য পাঠানোর মাধ্যম - 
Bkash:
01852697701 (Personal)

Nagad:
01788360030 (Personal)
Rocket

Bank:
Dutch Bangla Bank Limited 
A/C Name: Md. Tanjeeb Khan Saad
A/C No:  7017510061059
Branch: Mirpur,Dhaka

© Tasrif Khan 🖤

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অনার্স পাস করেও এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে চাকরি পাচ্ছে না!

গ্রুপে মেম্বার ইনভাইট করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

বিয়ে ফ্যাক্ট নয়, ফ্যাক্ট হলো- নুপুর শর্মাদের ইসলামবিদ্বেষ