বাবার স্যান্ডেল....🥲🥺

 #_বাবার_স্যান্ডেল...... 


আশিক কোথায় যাচ্ছিস বাবা.....???

এইতো আব্বু আমি একটু বাইরে যাচ্ছি কেন তোমার কিছু লাগবে। না মানে আসলে কথাটা কেমন করে বলি বলতে ও লজ্জা লাগছে আবার না বলে ও পারছি না। আমকে ১০ টা টাকা দিবি বাবা। ১০ টাকা!

হ্যা বাবা আসলে আমার স্যান্ডেল  টা ছিরে গিয়েছে তো তাই ভাবলাম এটা একটু সেলাই করে নিয়ে আসি। তুই শুধু বেশি না আমাকে ১০ টা টাকা দে আমি বাজারে হেটে যাবো হেটে আসবো। আসলে কি আমার কাছে কোন টাকা নেই, আমি হেটে আসা যাওয়া করলে টাকা লাগবে না ঠিক আছে কিন্তু স্যান্ডেল  সেলাই করতে তো টাকা লাগবে তাই না। আর তুই এতো দিন পর দেশে আসলি বাইরে সবার সাথে যাবি ঘুরবি ফিরবি আনন্দ করবি তাই তোকে আর জালাতন করছি না। আমি নিজেই যাবো। আমার স্যান্ডেল  টা ছিরে গিয়েছে আমি ঠিক মতো হাটতে পারি না। সেদিন বাড়ির উঠানে পরে গিয়েছিলাম। কমরে একটু লাগছে, আসলে স্যান্ডেল  ছারা তেমন চলা যায় না তো নামাজ কালাম পরতে হয়। খালি পায়ে মসজিদে গেলে রাস্তায় অনেক নাপাক কিছু থাকে। আর মসজিদে গিয়ে আমি দুদিন করে অন্যের স্যান্ডেল  পরে পা ধুয়ে মসজিদে যেতাম। কিন্তু ওইযে  দুলাল আছে না ও সেদিন সবার সামনে আমায় বলে দিল। আমি নাকি কিপ্টা আমার কিপ্টামো স্বভাব  এখনো যায় নাই। একটা স্যান্ডেলের দাম কই টাকা আর কিনতে পারে না। ছেলে এতো বড় চাকরি করে বাসায় সব পাকা ঘর বাড়ি আর একটা স্যান্ডেল কিনতে পারি না।দে না বাবা ১০ টা টাকা থাকলে। বিশ্বাস কর আমার আর কিছু লাগবে না। এ কথা গুলো সব এক মনে আমার বাবা বলে গেলেন, আর এসব শুনে আমার মাথায় যেমনি আকাশ ভেঙে পরার মতো অবস্থা তেমনি চোখ দিয়ে পানি পরছে টপ টপ করে।  মনে পরে গেল সেই ছোট বেলার কথা। যখন আমি কোন জিনিসের জন্য বাইনা করতাম শুধু একবার বলতাম আমার এটা চায়। আব্বু বলতো আমার কাছে টাকা নাই আমি এতো বাজে খরচ করতে পারবো না।কিন্তু ওমা এটা কি  তাজ্জব  ব্যাপার  কিছুক্ষণ পরে দেখতাম আমার সেই জিনিস টা আমার রুমে বালিসের পাশে রাখা।তখন আম্মুকে বলতাম যে আম্মু এটা কোথা থেকে আসলো।

আম্মু বলতো কি জানি তবে তোমায় মাঝে মাঝে বলি না ভাত খেয়ে নাও নইলে দৈত্য  আসবে। তুমি লক্ষি ছেলের মতো খেয়ে নিতা তাই মনে হয় সেই দৈত্য খুশি হয়ে এসব দিয়ে গিয়েছে। আর আমি ও খুব খুশি হয়ে ইয়ে ইয়ে আমার পোশা দৈত্য আছে আমি যা চাই সে তাই দেয়।আমি আব্বুকে বলতাম তুমি খুব পঁচা আমায় কিচ্ছু দাও না কিন্তু দেখছো দৈত্য কত্ত ভালো সে আমায় কত্ত কিছু দেয়। কিন্তু যখন আস্তে আস্তে বড় হলাম  তখন বুঝতে   পারলাম  যে আসলে দৈত্যটা কে। 

 বাবা হলো আমাদের জীবনে সেই অদৃশ্য  দৈত্য যা আমারা ছোট বেলায় রুপকথার কাহিনিতে পরতাম।বাবারা আমাদের সকল চাওয়া পাওয়া  এ ভাবে পুরন করেন আড়ালে থেকে নিরবে। আমি আব্বুকে জিজ্ঞেস করলাম আব্বু তোমার এই অবস্থা তুমি আমায় একটা বার ও কেন বলো নাই। আর আমি আগে তোমার একাউন্টে টাকা দিতাম তোমার যা কিছু লাগে তুমি সেখান থেকে খরচ করতে। কিন্তু আমাদের বাসায় তোমার বেটার বউ মানে নেহা আসার পর। আমি দেখলাম তুমি এখন এতো কষ্ট করবা। তুমি বাসায় থাকো তোমার নাতিদের সাথে খেল, আমাকে মাঝে মধ্যে   ঝিনুক  আর ফারাবি বলে বাবায় বাবায় জানো আমরা দাদু ভাইয়ের সাথে রোজ রোজ খেলি দাদু ভাই কতো কতো আমাদের গল্প শোনায়।আই লাভ দাদু ভাই তাই আমি ও তোমাকে সংসারে কোন প্যারা দেয় না আর টাকা পয়সা ও সব নেহার কাছে দেয়।  আমি এ দিকে ব্যাস্ত থাকি। তোমার সাথে মাঝে মধ্যে কথা হলে তুমি বলো ঐষুধ ও সব ঠিক ঠাক মতো খাও। আর নেহা ও তোমার ঠিক মতো যত্ন নেয়। কিন্তু আব্বু তোমার এ অবস্থা আমি একটা বারের জন্য জানি না।আজকে আমি নেহা কে দেখছি ওর একদিন কি আমার একদিন। আমি ওকে বলছি দেখ আমার মা নেই বাবা আমার কথা চিন্তা করে দ্বিতীয় বিয়ে করে নাই। আমাকে কোলে পিঠে করে মানুষ করছে। আমাকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মতো মানুষ করছে। আজ আমি এতো বড় হয়েছি তোমার রক্তের প্রতিটা ফোটায় ফোটায় আর সে তোমার সাথে নেহা এমনটা.....

আজকে আমি ওকে দেখছি! 

না আশিক বাবা তুই এটা করিস না বউমার বয়স কম ছোট মানুষ ও এসব বুঝে নাই আর ও এতো কিছু সামলায় বাড়িতে সব কিছু একা হাতে। ও সময় পাই না আমার ও খুব লজ্জা করে বউমার থেকে  টাকা চেয়ে নিতে। আমার খুব চিৎকার করে বলতে ইচ্ছে হচ্ছে বাবা তোমরা এতো ভালো কেন......???

সব সময় আমাদের কে আগলে রাখো সব কিছু থেকে । 

 আজকে আমার সব কিছু বাদ চলো আব্বু আজ আমরা দুই বাপ বেটা মিলে পুরো  সহর ঘুরবো। আজ তোমাকে তোমার পছন্দের খাবার খাওয়াবো তুমিতো আগে সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখতে ভালোবাসতে আজ আমরা সিনেমা দেখবো আজ অনেক অনেক মজা করবো চলো আব্বু  চলো। কিন্তু তার আগে চলো তোমাকে নিয়ে শপিং মলে  যায় তোমার জন্য শপিং করি। আমাদের এসব দেখে আমার স্ত্রী  নেহা  রাগে গজ গজ করছে। সেইটা বুঝতে পারছি আমিও মনে মনে বলছি আজ রাতে তোর মজা ও আমি দেখাবো একটু ধৈর্য ধর। এখন আব্বু বাচিয়ে দিল আমি ও আব্বুর সামনে কিছু বললাম না। কিন্ত রাতে কই যাবি আমার বাবা আমার কলিজাটাকে অবহেলা করেছিস। তোকে আমি দেখে নিব রে। এই বলে আব্বু কে নিয়ে বের হয়ে গেলাম  বাসা থেকে। গন্তব্য জানি না কিন্তু এটা জানি। আজ আব্বুকে সেই ৩০ বছর আগে নিয়ে যাবো। ঠিক তুমি যে ভাবে আমার ছোট ছোট খুশি পুরন করতে। আমার হাতে হাতে রেখে আঙুল ধরে হাটা শিখিয়েছো । আজ থেকে আমি তোমায় এ ভাবে আগলে রাখবো বাবা। 


আমায় মাফ করে দিও আব্বু আমায় মাফ করে দিও আমি তোমাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি আর নয়। এখন থেক আমি তোমার সাথে থাকবো সব সময়।


যারা এখনো আমাদের গ্রূপে জয়েন না হয়ে গল্প পড়ছেন তারা এখনোই আমাদের গ্রূপে জয়েন হয়ে নিন আমাদের গ্রুপ টা পাবলিক করা আমাদের গ্রূপের গল্প গল্প মন ছুঁয়ে যাবে নীল লেখায় চাপ দিয়ে জয়েন হন 👉👉 📕 সাহিত্য ডাইরি 📗

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

অনার্স পাস করেও এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে চাকরি পাচ্ছে না!

গ্রুপে মেম্বার ইনভাইট করার জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে।

বিয়ে ফ্যাক্ট নয়, ফ্যাক্ট হলো- নুপুর শর্মাদের ইসলামবিদ্বেষ